Home » ফিচার2 » সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা যা করতে পারি

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা যা করতে পারি

2,077 বার পঠিত

দেশে পরিবহন খাতে, বিশেষত সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে, একধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। এই পরিস্থিতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সরকারি হিসাবে দুর্ঘটনাজনিত প্রাণহানির সংখ্যা বছরে চার হাজারেরও বেশি। অন্যদিকে বেসরকারি হিসাবে তা ১২ হাজারের মতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সংখ্যা প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। গত ১৩ আগস্ট একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রনির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীর এবং তাঁদের তিনজন সহযোগী—জামাল, মোস্তাফিজ ও ওয়াসীমের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গোটা দেশ কেবল স্তম্ভিতই হয়ে পড়েনি, এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধেও সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। এর আগে গত ১১ জুলাই মিরসরাইয়ে ৪২ জন শিশু অকালে প্রাণ হারায় আরেক দুর্ঘটনায়, যা সারা দেশের মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। ২৮ জুলাই বগুড়ার শাজাহানপুরে ১৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বছরের গোড়াতে কর্তব্যরত অবস্থায় দুজন কর্মকর্তাসহ ১০ জন পুলিশ নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। এ বছরের জুলাই মাসে ১৭৩ ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। একইভাবে নভেম্বর মাসে এক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের ছাত্রী নাদিয়া সুলতানাসহ চারজন মারা গেছেন। সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান টুগেদার ইনিশিয়েটিভ লিমিটেডের পরিচালক মনোয়ারুল হাসান এবং তাঁর স্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিত্সক নাহিদ রোকসানা প্রাণ হারিয়েছেন। দিনাজপুরে নিহত হয়েছেন তিনজন ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, নভেদা বেগম ও জবেদা বেগম। এই তালিকা যে অনেক বড়, তা সবাই জানেন। এসব ঘটনার পাশাপাশি, বিশেষত ১৩ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনার অব্যবহিত পূর্বেই এ তথ্য সবাই জানতে পেরেছেন, নৌপরিবহনমন্ত্রীর সুপারিশে ২৪ হাজার লোককে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স প্রদানের চেষ্টা চলছে। অতীতে একই প্রক্রিয়ায় ১৪ হাজার ব্যক্তিকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। ১৯৯০ সাল থেকে পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স দেওয়ার এই প্রক্রিয়া চালু হয় এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে কেবল চালকদের অদক্ষতাই যে একমাত্র কারণ নয়, তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন আমরা দেশের পথঘাটগুলোর অবস্থা লক্ষ করি। ১৩ আগস্টের দুর্ঘটনার ঠিক আগে আগেই দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং বাস-ট্রাক মালিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চালাতে অস্বীকার করে। দেশের প্রধান প্রধান শহরের রাস্তাঘাটে গত এক দশকেও কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তদুপরি দেশের প্রচলিত আইনগুলো ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাদি এতই দুর্বল যে এগুলো সময়োপযোগী নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলোও বাস্তবায়ন করা হয় না। পরিস্থিতির ভয়াবহতা কিছুটা সুস্পষ্ট হয় যখন দেখি মোটরযানের মালিকানার সংখ্যা অনুপাতে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ হতাহতের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটে (১০০০ মোটরযানের বিপরীতে ১০০ মৃত্যুর ঘটনা)। তা ছাড়া, এ দেশে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম মূল কারণ হিসেবেও সড়ক দুর্ঘটনা আবির্ভূত হয়েছে। জাতীয় মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার ৩৮ শতাংশ ঘটতে দেখা যাচ্ছে। আর অনুমান করা হয় যে বছরে গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগে চিকিত্সাসেবা নিতে বাধ্য হয়। সড়ক দুর্ঘটনার অর্থনৈতিক দিকটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এক হিসাবে দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার অর্থনৈতিক মূল্য জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। এ ধরনের নানা বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকর্ম ইতিমধ্যে সম্পাদিত হলেও সমাধানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
পরিবহন খাতের এসব সমস্যার বিষয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া তথ্য ও জনগণের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে ১৩ আগস্টের পর নৌপরিবহনমন্ত্রী ও যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগ ও অপসারণের দাবি ওঠে সমাজের সর্বস্তর থেকে। তৃণমূল পর্যায় থেকে এ নিয়ে বিক্ষোভ, সমাবেশ, মিছিল সত্ত্বেও দুজন মন্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করেন। তদুপরি প্রধানমন্ত্রী সংসদ ও সংসদের বাইরে সুস্পষ্টভাবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের ওপর তাঁর আস্থার কথা বলেন এবং মন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবি নাকচ করে দেন। প্রধানমন্ত্রীর নাকচের আগে দেশের পরিবহন খাতের এই পরিস্থিতির জন্য অর্থ বরাদ্দ নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী পরস্পরকে দোষারোপ করেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই খাতের বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব দাখিল করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন।
গত কয়েক সপ্তাহের আলাপ-আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, দেশের সড়ক পরিবহনব্যবস্থা এখন এমন এক অবস্থায় উপনীত হয়েছে, যাকে কেবল নৈরাজ্যকর বলাই যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের সড়কগুলো যে দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুফাঁদ ছাড়া আর কিছুই নয়, তা এখন সবার কাছেই স্পষ্ট এবং তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। যার সহজ অর্থ হচ্ছে যে, আমরা প্রতিদিনই দেশের অসংখ্য মানুষকে অসময়ে হারাচ্ছি; যাদের মধ্যে অনেকেই খ্যাতিমান, অনেকেই সম্ভাবনাময়। এই অবস্থা আর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সমাজের সর্বত্রই এখন এই অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি অবসানের দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের সচেতন সাধারণ মানুষের করণীয় কী? অনেকেই এই প্রশ্ন করছেন।
আমাদের ধারণা, সড়ক পরিবহন খাতের নৈরাজ্যের অবসান এবং প্রতিদিন সংঘটিত দুর্ঘটনা, যা সহজেই পরিহারযোগ্য, মোকাবিলার জন্য আমাদের করণীয় কাজকে আমরা তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি। এগুলো হচ্ছে: জবাবদিহির সংস্কৃতি তৈরি ও তার কাঠামো তৈরি; সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে মডেল তৈরি; এবং এই খাতের সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সমস্যার বিভিন্ন দিক সুনির্দিষ্ট করে জাতীয় পর্যায়ে নীতি ও কর্মপদ্ধতি তৈরি করা।

জবাবদিহির সংস্কৃতি ও কাঠামো
সড়ক পরিবহন খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও দেশের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো রকম দায়িত্ব গ্রহণ করার কোনো মনোভাব প্রদর্শন করেনি। ১৩ আগস্টের পর সংশ্লিষ্ট দুজন মন্ত্রী যে কেবল পদত্যাগ করতেই অস্বীকার করেছেন তা নয়, তাঁরা এ জন্য কোনো রকম দায়িত্ব পর্যন্ত নেননি। যোগাযোগমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর মধ্যে প্রকাশ্য বিতর্কেও দেখা যায়, কেউই মনে করেন না যে অব্যাহত এই পরিস্থিতির জন্য সরকার ও কোনো সংস্থার দায়িত্ব রয়েছে। জবাবদিহির এই অভাব কেবল পরিবহন খাতেই রয়েছে তা নয়, সরকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যান্য ক্ষেত্রেও তা সমভাবে উপস্থিত। স্মরণ করা দরকার যে এটি কেবল বর্তমান সরকারেরই বৈশিষ্ট্য নয়। ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর আশা করা হয়েছিল, সরকার জনসাধারণের কাছে জবাবদিহির পরিচয় দেবেন। কোনো রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় যাওয়ার পর এ বিষয়ে কোনো রকম উত্সাহ দেখায়নি। পরিবহন খাত নিয়ে সারা দেশের মানুষের ক্ষোভের পটভূমিকায় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ও পদক্ষেপ জবাবদিহির অভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এই বিষয়টি বোঝার জন্য জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দলের একজন শীর্ষপর্যায়ের নেতার মন্তব্যই যথেষ্ট: ‘দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এখন আর কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না’।
জবাবদিহি গণতন্ত্রের একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারের মতোই একটি অধিকার। আর তাই সবার কর্তব্য হচ্ছে জবাবদিহির সংস্কৃতি তৈরির জন্য দাবি তোলা ও চাপ প্রয়োগ করা। এই লক্ষ্যে দরকার জবাবদিহির জন্য প্রতিষ্ঠান তৈরি এবং যেসব প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোকে শক্তিশালী করা। বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে যে ন্যায়পালের কথা বলা হয়েছে, তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার দাবি হচ্ছে জবাবদিহির সংস্কৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রত্যক্ষভাবে পরিবহন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো, সংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন, মন্ত্রণালয়, এসবের কেউ দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় ঘটালে তার দায়িত্ব কার ওপর বর্তায়, তা সবারই জানার অধিকার রয়েছে। তার জন্য সাধারণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা দরকার এবং সরকারকে এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা তৈরিতে বাধ্য করা দরকার।

স্থানীয়ভাবে সমস্যা মোকাবিলা করা
পরিবহন খাতের সমস্যা জাতীয় পর্যায়ের সমস্যা হলেও একে স্থানীয়ভাবে কী করে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে আমাদের ভাবা দরকার। সম্প্রতি বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় আমাদের গ্রাম প্রকল্পের উদ্যোগে পরিবহন বিশৃঙ্খলা নিরসনে একটি স্থানীয় উদ্যোগ এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য। এলাকার জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারা, পরিবহন সেক্টরের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, এনজিওসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি এগিয়ে এসেছে পরিবহনশ্রমিক এবং এ খাতে বিনিয়োগকারীরাই। এদের বক্তব্য বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য, সড়কের নৈরাজ্য এ খাতকে ক্রমাগত লোকসানের দিকেই ঠেলে দেয়। তাই এই অবস্থা তাদের কাম্য নয়। এ ছাড়া নেতিবাচক পরিস্থিতি নিম্ন আয়ের শ্রমিকদেরই ভোগায় বেশি। রামপালের উদ্যোগে তাই একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, যেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষকমণ্ডলী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, পরিবহনশ্রমিক-মালিক সবাই মিলে নিশ্চিত করবে যে নিজেদের এলাকায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না। এই ‘দুর্ঘটনামুক্ত উপজেলা’ গঠনের প্রতিশ্রুতি প্রতিটি এলাকার শান্তি ও নির্বিঘ্ন পথ চলাচলের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

জাতীয় পর্যায়ে নীতি ও কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন
আমরা এমন এক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাগুলো জ্যমিতিক হারে বাড়তে দেখছি, যখন মাত্র কয়েক মাস আগে জাতিসংঘের নিরাপদ সড়কসংক্রান্ত কর্মসূচির (UN Decade of Action for Road Safety 2011-20) সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার বেশ ঘটা করে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত চমত্কার সব ডকুমেন্ট আর নিরীক্ষা-রিপোর্ট দেখলে যে কারও মনে হতে বাধ্য যে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমাদের অগ্রগতি সন্তোষজনক। কিন্তু বাস্তবতা কতটা ভিন্ন, তা দেশের সাধারণ মানুষ ভালোই জানেন। আমরা মনে করি, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যেসব সরকারি-বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে, তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তা ছাড়া বুয়েট বা ব্র্যাকের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ যেসব গবেষণাকর্ম হচ্ছে, সে সম্পর্কেও নাগরিক সমাজ ভালোভাবে জানার সুযোগ পাচ্ছে না। এতে সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগ এবং দাবি আদায়ের কর্মকৌশল নিয়ে নাগরিক সমাজ ততটা কার্যকরভাবে উত্সাহী মনোভাব দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এই অবস্থার একটি আশু সমাধান চাই। আমরা আরও মনে করি, প্রচলিত এবং জনপ্রিয় কর্মসূচির বাইরেও নাগরিক সমাজের নানা রকমের উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, যা টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে এগোতে পারবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে। এ ব্যাপারে আমরা একটি জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি, যেখানে স্বার্থসংশ্লিষ্ট সবাই অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এই কনভেনশনের কয়েকটি দিক নিয়ে আমাদের ভাবনাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১। সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনার সিংহভাগই সরকারি কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও গুটিকয়েক এনজিওর মধ্যে আমরা সীমিত থাকতে দেখেছি। আমরা মনে করি, এতে নিরাপদ সড়কসংক্রান্ত নানা উদ্যোগের সঙ্গে জনমানুষের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয় না। তাই প্রস্তাবিত জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে আমরা একটি জাতীয় ফোরাম গঠন করতে পারি, যেখানে বিভিন্ন ধাপে বুয়েটের কিছু বিভাগ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের গবেষক, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা/সচিব, ডাক্তার, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের প্রতিনিধি, ঠিকাদার, সাংবাদিক, এনজিও কর্মী, মনোবিজ্ঞানী ও ভিকটিমদের পরিবারের প্রতিনিধিরা স্থান পাবেন।
২। জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে পরিচিত করানোর একটি সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বিরোধী দলের কাছে থেকে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক রাজনৈতিক অঙ্গীকার আদায়ের বিষয়টিও থাকবে। এ ব্যাপারে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হবে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা তহবিল গঠন, মহাসড়কগুলোর কাছাকাছি দুর্ঘটনার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ নতুন ধরনের কিছু প্রস্তাব আমরা এই কনভেনশনের মাধ্যমে সরকারের কাছে পেশ করতে পারি। এই উদ্যোগে বেসরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের জাতীয় সংগঠনকে অঙ্গীভূত করতে হবে।
৩। সড়ক নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সফলতাগুলো কীভাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কাজে লাগানো যায়, সে ব্যাপারে কর্মকৌশল প্রণয়ন। যেসব সংস্থা ও নাগরিক উদ্যোগ বিভিন্ন দেশে কাজ করছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন। তা ছাড়া, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কীভাবে থানা পর্যায়ে স্থানীয়ভাবে সড়ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে নাগরিক সমাজ যুক্ত হতে পারে, তার দিকনির্দেশনা প্রণয়ন।
৪। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে শিশু শিক্ষা কর্মসূচির একটি পরিকল্পনার কথা আমরা জানতে পেরেছি, যা উত্সাহব্যঞ্জক। তবে এ ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ (ইন্টারনেটে এ-সংক্রান্ত ডকুমেন্টগুলো বেশ সহজলভ্য) বিবেচনায় এনে নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজনীয়।
৫। বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হলে প্রচলিত ক্যাম্পেইন কৌশলে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, সড়ক ব্যবহারকারীদের সবারই অভ্যাস ও আচরণ পরিবর্তন করা একটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। কাজেই প্রস্তাবিত জাতীয় কনভেনশনে মনোবিজ্ঞানী এবং পাবলিক ক্যাম্পেইন বিশেষজ্ঞদের নতুন ধরনের প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
৬। নিরাপদ সড়ক নিয়ে গবেষণা ইনস্টিটিউট গঠনের প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে। আমরা মনে করি, এ খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে সাহায্য করা জরুরি। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পরিবহন খাতে যারা ব্যবসা করছে, তাদেরকে এই অর্থায়ন-প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে উত্সাহিত করা দরকার।
৭। প্রস্তাবিত জাতীয় কনভেনশনটির একাধিক দিক থাকতে পারে। এখানে গবেষণাভিত্তিক লেখালেখি থেকে শুরু করে প্রস্তাব/কর্মকৌশল সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আহ্বান করা যেতে পারে। অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদেরও আমন্ত্রণ করা হবে, যাতে করে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার আদায় সম্ভব হয়। চূড়ান্তভাবে এই কনভেনশনের মাধ্যমে সরকার, এনজিও ও নাগরিক সমাজের এই পারস্পরিক যোগাযোগের সম্পর্ক তৈরি ও অব্যাহত রাখা এবং এর ওপর ভিত্তি করে নিরাপদ সড়ক নিয়ে নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার কাজে এগোতে হবে।
উল্লিখিত তিনটি করণীয় সামনে রেখে পরিবহন খাতের নৈরাজ্য অবসান এবং সবার জন্য নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টাকে একত্র করা জরুরি। এ বিষয়ে বোধ করি কারোরই সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশে সড়ক অব্যবস্থাপনার সঙ্গে আর্থিক দুর্নীতি ও অসততা জড়িয়ে আছে। তাই অনেকেই নাগরিক সমাজের নানা উদ্যোগের সফলতার ব্যাপারে সন্দিহান থাকেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি, এ ব্যাপারে নাগরিক সমাজের ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ ও ‘লেগে থাকবার’ কৌশল একসময় সামাজিক সচেতনতা তৈরি করবেই এবং অব্যবস্থাপনার বিষয়টি আমরা একসময় সবাই মিলেই কাটিয়ে উঠতে পারব। তৃণমূল পর্যায় থেকে, বিশেষ করে ‘ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী-জনতা’ ফোরাম থেকে যেসব দাবি উঠেছে, তার মধ্যে যেমন আশু দাবি রয়েছে তেমনি রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আকাঙ্ক্ষা। সমস্যা সমাধানে জনসম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে তৃণমূলের স্বতঃস্ফূর্ত প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমর্থন অব্যাহত রাখা দরকার। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে যারা সক্রিয়, তাঁদের এই প্রচেষ্টায় অঙ্গীভূত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য সংস্থা, গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের যথাযথ অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো রকম দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করা যাবে না। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করা, তার বাস্তবায়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং তার জন্য অব্যাহত চাপ প্রয়োগের জন্যই সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে শামিল করাতে আমাদের উদ্যোগ নেওয়া দরকার, যেন আমরা আমাদের ভবিষ্যত্ বংশধরদের বলতে পারি, আরেকটি মিরসরাইয়ের ঘটনা কখনোই ঘটবে না।

মন্তব্য
  • shaheenjkt@gmail.com নভেম্বর 30, 2011 at 12:27 অপরাহ্ন

    communication develop korte hobe

  • ronimmi নভেম্বর 25, 2011 at 2:13 অপরাহ্ন

    biggest issue now for bangladesh.

  • jame নভেম্বর 21, 2011 at 9:48 অপরাহ্ন

    road accident e mrittu khub dukhojonok…..2-3 jon celebratyr mrittur por ai beparta alochonay ashchilo…bt protidin je koto manush er mrittu hoche tar khobor kew rakhena…Gov. er ai bepare aro shocheton howa dorkar…Nice article …

  • tanvirgenius নভেম্বর 21, 2011 at 5:01 অপরাহ্ন

    amra sudu alochlona samalochona korsi but kono luv ki hocchhe athe

  • Rajib Chakma নভেম্বর 21, 2011 at 4:19 অপরাহ্ন

    ধন্যবাদ, আলী রীয়াজ, রেজা সেলিম, মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান তথ্যভিত্তিক সুন্দর প্রতিবেদনটি জন্য

  • Torun নভেম্বর 21, 2011 at 8:39 পূর্বাহ্ন

    সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চাই সবার সচেনতা।এটা ব্যাতিত কখনও ইহা সম্ভব নয়

  • Shahriar নভেম্বর 20, 2011 at 3:14 অপরাহ্ন

    it is much easier to theorize and implicitly more challenging to implement

  • Md. Rafikul Islam নভেম্বর 20, 2011 at 12:55 অপরাহ্ন

    A good article. I think everyone will follow it.

  • jafria নভেম্বর 20, 2011 at 11:36 পূর্বাহ্ন

    akmukhi korte hobe shokol rasta satha mor guli proshosto kora soho mor a signal er babostha joruri.

  • noman নভেম্বর 20, 2011 at 5:52 পূর্বাহ্ন

    thanks to writers of this column.we got some information that is true.we have lots of problem as we are developing country.Afer our independence we got lots of time. we could not change our country that is our failure
    on the other hand we got many political leaders but we did not get ideal leaders who work for our country.they always take politics as business. This is our weakness we elect godfather, corrupted and unsocial leader.next time we must have to alert from these guys.

    Here, writer mentioned some ways and plan to decrease road accident to our eminent ! leaders.in that way if we take action i think it will be potential.

  • SoulOfBD নভেম্বর 20, 2011 at 4:57 পূর্বাহ্ন

    I am very anxious about my country and pray everyday that each and every person can have a meal a day and nobody dies of accident in my country.
    I am living in England for more than couple of years now, they obviously have a good transportation system. But what amazes me is that they have narrower roads than we have. it is very frustrating that having wider roads doesn’t help our people to even hope for a safe journey. My suggestion would be a long term planning for the Dhaka city which might seem impossible but eventually it will be beneficial for the country as a whole.
    First of all, we should plan the city properly keeping all the odds in mind such as Floods and Earthquake, Emergency (Fire) and better living as well. We should let our developer build several apartments (not high rise) but of high volume of flats in them by demolishing old private owned buildings and compensating the owners with number of more modernised flats they deserve. It will help to have spaces for more roads, for parks which we barely have in our community, social centres etc.. I think it would make loads of new roads making new routes, making travel easier. Also, we should have a unique type of buses (may be the modern form of old ‘Murir Tin’ can make good appearance in the road. but just one image of buses should all over Dhaka. of course several numbers and routes. Double deckers will be convenient if electricity cables are drawn underground. if the commercial plants can also be transferred to outside of Dhaka then it will keep the air much cleaner.
    If we can have nicer roads then we will attract Tourists. At the end of the day we have a beautiful country!

  • ruhelsylhet নভেম্বর 20, 2011 at 3:20 পূর্বাহ্ন

    Nobody follows traffic rules here, law enforcement force, disciplined (?) military person not even the traffic police !!! the fashion here not to follow traffic rules, you’d b considered as smart if you can take wrong way and pass the jam, or if you can overtake another vehicle wrong side !!!

    1. i think 1st of all traffic police need enough training about the rules, if the empowered person does not know the rules properly how can he or she can apply this. i always notice in my city that traffic police allows people to go wrong way, they take no action when a driver does not go through round about or if any driver does not follow One-way.

    2. most of the driver (99%) educated, literate, super literate gentlemen or illiterate does not have the consciousness about traffic rules as they do not study or does not feel to learn traffic rules, may be a reason that everyone know it is not important to follow traffic rules here in this country as it’d b considered as brave or smart thing if he can break the rules, even if he break the rules nobody is going to fine him for that.

    3. who cares the poor traffic officer !!! “amra sobai raja ei super gonotantrik deshey” !! this is also a big problem i think that nobody cares poor traffic officer, they have no power, only power they can show to the rickshaw pullers, they can easily slap rickshaw pullers as they know rickshaw pullers will not make any phone calls to a political leader or any unethical higher authority.

    4. lastly the roads and highways are full of technical errors, lack of traffic signs, there is no monitoring, any market committee or village committee can make own designed speed breaker wherever they want or they can dig the road wherever they need, they do not need any engineer or any permission from proper authority (when needed it is easily manageable by a local political leader).

    these 4 are the most significant solution i can see when i drive by following traffic rules, i never break traffic rules as i consider me as a smart driver !!!

    • chhonnochharha নভেম্বর 20, 2011 at 12:24 অপরাহ্ন

      Law and order is right then most of things like these are right. The fact is our lifestyle is ought to be modified by our Govt.policies. It seems suggestions though precious are not worth in the dumb political situation like here now.

  • rafikalamgir নভেম্বর 19, 2011 at 11:24 অপরাহ্ন

    অভিবাদন আলী রীয়াজ, রেজা সেলিম, মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান কে তাদের মূল্যবান প্রতিবেদন শেয়ার করার জন্য।” আমাদের উদ্যোগ নেওয়া দরকার, যেন আমরা আমাদের ভবিষ্যত্ বংশধরদের বলতে পারি, আরেকটি মিরসরাইয়ের ঘটনা কখনোই ঘটবে না।” প্রথম আলোকে ধন্যবাদ উদ্যগের সুচনা করার জন্য। আশা করি এই উদ্যেগে সবাই এগিয়ে আসবে।

  • Rajesh নভেম্বর 19, 2011 at 9:22 পূর্বাহ্ন

    আর্টিক্যাল ভালো । শুরু হলো যখন একটা দিশা নিশ্চই হবে। এ একটি প্লাটফর্ম যখন দাড়িয়েছে তখন তর্ক বিতর্কের সাধ্যমে সমাধান আসবেই। প্রথম আলোকে ধন্যবাদ ।

  • omar123 নভেম্বর 19, 2011 at 1:54 পূর্বাহ্ন

    what an ABSOLUTELY USELESS article… it’s like watching 2 political parties playing the BLAME GAME allover again…

    Let’s just SIMPLIFY the problem, and find a SIMPLE solution, shall we?

    PROBLEM = ROAD ACCIDENTS
    WHAT IS CAUSING THEM? = mostly head on collisions due to lack of boundaries in the middle of the highways and on the sides
    MOST FEASIBLE/SIMPLISTIC solution = BRICKS and CEMENT… 6 to be exact (2 on the left, 2 on the right, 2 in the center)

    if we could build roads and railway tracks after 71, we definitely can create inland and boundaries. Our central reserve fund does have enough money to build the boundaries.

    so let’s start building them, let the tenders flow… 300km at a a time. or let’s start building them on our own if the government is too stingy. let us buy BRICKS and cement, as many as we can afford, and then cement them in the middle of the highways

    all these stupid campaigns and self awareness programs and stupid researches are gonna get us nowhere… time to take action people… no disrespect intended for the brilliant people who wrote the above so called “SOLUTION”

    • SoulOfBD নভেম্বর 20, 2011 at 5:01 পূর্বাহ্ন

      thats the spirit. thats what we want. 1000 more like you will build the BEAUTIFUL BANGLADESH. Hats off!

    • chhonnochharha নভেম্বর 20, 2011 at 1:13 অপরাহ্ন

      This Idealist vs Realist game is better. Let’s see who wins. Let me guess! If the Govt. were realist then ………. this accident might not have happened. And if we all were realist, this kind of govt. would never been brought to life. So this kind of accident would be so rare to find in years. So we the realist people are getting too tired of this reality and really can’t find a way other than being idealist that can build public opinion that may effect slow & strong. It is true that we are being idle being idealist, and overrules are getting too far. So I don’t know who will win this game!!

  • Sheikh Shadi নভেম্বর 19, 2011 at 12:41 পূর্বাহ্ন

    Sochetonotai pare road accident Dur Korte.

  • মিজানুর রহমান নভেম্বর 18, 2011 at 5:10 অপরাহ্ন

    সমস্ত বাংলাদেশে দুলাইনের রাস্তা এবং আঁকা বাঁকা রাস্তা সোজা না করলে সড়ক দুর্ঘটনা কখনোই বন্ধ হবে না।

    • batir alo নভেম্বর 20, 2011 at 11:08 অপরাহ্ন

      ekdom thik kotha

  • shipo নভেম্বর 18, 2011 at 6:25 পূর্বাহ্ন

    Our political leaders have no time to think about the people and their safety.Other wise they are decision maker they can make serious decision even though our lots of limmitation.

  • rehan নভেম্বর 18, 2011 at 4:34 পূর্বাহ্ন

    ধন্যবাদ।

  • dipu786 নভেম্বর 17, 2011 at 9:36 অপরাহ্ন

    Thank you for your post.

  • arefin emon নভেম্বর 17, 2011 at 9:22 অপরাহ্ন

    অনেক অনেক ধনবাদ।

  • বদলে যাও বদলে দাও নভেম্বর 17, 2011 at 6:55 অপরাহ্ন

    অনেক ধন্যবাদ। তথ্যভিত্তিক সুন্দর প্রতিবেদনটি দেশের সকল সচেতন নাগরিকদের কাজে আসবে।

  • Nasrul Islam Ripon নভেম্বর 17, 2011 at 6:15 অপরাহ্ন

    Many Many Thanks to Mr. Ali Reaz , Reza Selim and sazzadur Rahman for their Report.

© বদলে যাও বদলে দাও